আল-হুব্বু ফিল্লাহ বা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা
"আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসা" বা আল-হুব্বু ফিল্লাহ (الحب في الله) ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা। কথাটি সরাসরি পবিত্র কোরআনের কোনো নির্দিষ্ট আয়াতের হুবহু অংশ না হলেও, এটি হাদিস শরিফের সুপরিচিত বার্তা এবং কোরআনের ভ্রাতৃত্ববোধের মূল নির্যাস।
এর প্রকৃত অর্থ কী?
দুনিয়ার কোনো স্বার্থ (যেমন: টাকা-পয়সা, ব্যবসা বা আত্মীয়তা) ছাড়া কেবল ওই ব্যক্তি একজন ভালো মানুষ এবং আল্লাহকে মেনে চলে—এই কারণে তাকে মন থেকে ভালোবাসাই হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। আপনি যদি কাউকে সৎ পথে চলতে দেখে ভালোবাসেন এবং সে আপনাকেও ভালো কাজের দিকে উৎসাহিত করে, তবে সেটাই "আল-হুব্বু ফিল্লাহ"।
এটি কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? স্বামী-স্ত্রী কি এর অন্তর্ভুক্ত?
এর পরিধি অনেক ব্যাপক। এটি হতে পারে দুজন বন্ধু, সহকর্মী বা যেকোনো দুজন মুসলিম। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা সাধারণত প্রাকৃতিক হলেও, তারা যদি একে অপরকে নেক কাজে সাহায্য করে এবং এই নিয়তে ভালোবাসে যে— "আমার জীবনসঙ্গী আমাকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে", তবে তাদের ভালোবাসাও এই মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হবে।
হাদিসের আলোকে মর্যাদা
আরশের ছায়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ সাত শ্রেণির মানুষকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো— "ওই দুজন ব্যক্তি, যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে। তারা এই ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করেই মিলিত হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করেই বিচ্ছিন্ন হয়।" (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
হাদিসে কুদসি: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়।" (মুআত্তা ইমাম মালিক)
কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি
সূরা আল-হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।" কোরআনের এই ভ্রাতৃত্ববোধের আয়াতেরই বাস্তব প্রতিফলন হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।
হোমে ফিরুন
প্রকাশিত ১ আগস্ট, ২০২৬
1 মিনিট পড়া
আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসা: অর্থ ও তাৎপর্য
ইসলামে "আল-হুব্বু ফিল্লাহ" বা আল্লাহর জন্য ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ জানুন। কীভাবে এই ভালোবাসা জাগতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে কেয়ামতের দিন আরশের ছায়া লাভের মাধ্যম হয়, তা হাদিস ও কোরআনের আলোকে আলোচনা করা হলো।
